ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এ কারণে ১ জানুয়ারি পাইপ লাইন বন্ধ করে দেয়ায় ইউরোপে পণ্যটির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়ে এক মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য গত সপ্তাহে ছিল ১৪ ডলার ৬০ সেন্ট।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ সত্ত্বেও চুক্তির সুবিধা নিয়ে ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে রাশিয়া প্রায় তিন বছর ধরে ইউরোপের দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে তা নবায়ন করতে রাজি হয়নি কিয়েভ।
কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান এফজিইর বিশ্লেষক সিয়ামাক আদিবি বলেন, ‘সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এটি আগেই ধারণা করা হয়েছিল। চাহিদা বাড়ায় ইউরোপের দেশগুলোয় এলএনজির মজুদ এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। তাই প্রথম প্রান্তিকের মজুদ নিয়ে অনিশ্চয়তা আগের তুলনায় আরো বেড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে রাশিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ না করলে তা সরাসরি উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে ঘাটতি তৈরি করার আশঙ্কা কম। তবে স্লোভাকিয়ার মতো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো যদি তাদের চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়ায় তাহলে তা ইউরোপের মোট সরবরাহে প্রভাব ফেলবে।’
সিয়ামাক আদিবি জানান, ইউক্রেন দিয়ে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্থগিতাদেশ ইউরোপীয় বাজারের জন্য নিট ক্ষতির কারণ হতে পারে। চলতি বছর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অন্যান্য বাজার থেকে বেশি এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হতে পারে।
কমোডিটি প্রাইসিং এজেন্সি আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এশিয়ার তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া-ইউক্রেন প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন চুক্তি শেষ হওয়া, তাপমাত্রা নিয়ে পূর্বাভাস সংশোধন ও নরওয়ের হামারফেস্ট রফতানি টার্মিনাল বন্ধ হওয়া।’
তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে ইউরোপের দেশগুলোয় এলএনজির দাম এশিয়াকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। “ইন্টার-বেসিন আরবিট্রাজ’’ কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ আছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ কার্গো এরই মধ্যে ইউরোপে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় নয়।’
ইন্টার-বেসিন আরবিট্রাজ হলো এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরের মাধ্যমে বেশি দামে এলএনজি বিক্রি করার সুবিধা।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১৪ ডলার ৭৯ সেন্টে। এছাড়া একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ২৩ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।
আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রায় ১৩ ডলার ৮০ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১৪ ডলার ৯০ সেন্ট।
স্পার্ক কমোডিটিসের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, শুক্রবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ২৪ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৭৫০ ডলারে।